সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় জেলা জামায়াতের বর্তমান ও সাবেক আমিরসহ ২১ আসামির দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় জেলা জামায়াত-শিবিরের ২১ আসামির মধ্যে মোট সাতজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান ও সাবেক আমিরসহ বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, গত ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর চারদলীয় জোটের হরতাল চলাকালে সকাল সোয়া সাতটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পীরবাড়ী এলাকায় টহল পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাংচুর চালায় একদল দুবৃর্ত্ত। এ ঘটনার পর জেলা জামায়াতের তৎকালীন আমির কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং বর্তমান আমীর সৈয়দ গোলাম সারোয়ারসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ওইদিন রাতে পুলিশের তৎকালিন এসআই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এসআই আতিকুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে ২০১৩ সালের ৩১ আগস্ট মামলায় এজাহার নামীয় আসামিসহ মোট ২১ জনকে আসামি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ২১ আসামির প্রত্যেককে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরও এক মাস করে কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সময় ২১ আসামির মধ্যে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারকৃত ৭ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন শহীদুল ইসলাম, সানাউল্লাহ, কাজী আবু জাহের, এমানুর রহমান, মহসিন মিয়া, ফরহাদ উদ্দিন, আজিজুল হাকিম তানভীর। মামলার প্রধান আসামি জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং বর্তমান আমীর সৈয়দ গোলাম সারোয়ারসহ বাকি ১৪ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলায় রায়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাভোকেট নাজমুল হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই রায়ের মধ্যদিয়ে দেশে অগ্নি সংযোগ, জ্বালাও-পুড়াও বন্ধ হবে। ‘
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাভোকেট মনিরুজ্জামান জানান, ‘আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।’
নগরকন্ঠ.কম/এআর